ভেজাল খাবারে বাড়ছে ক্যান্সার 

বিশেষ প্রতিবেদক:

শেয়ার করুন
উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত সর্বত্র ভোজাল পণ্যের ছড়াছড়ি। এখন খাদ্য মানেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে ক্যালসিয়াম কার্বাইড, ফরমালিন, হাইড্রোজ, ইথোপেনসহ নানা ক্ষতিকর রঙ ও রাসায়নিক বিষের সংমিশ্রণ। খাদ্যপণ্যের ভেজাল থামাতে প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালায়। অভিযানের পরেও থামছে না ভেজাল খাদ্যপণ্য তৈরি। টেক্সটাইলের কাপড়ের রং ও ফ্লেভার মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে জুস,
আইসক্রিম, মিষ্টি, পাউরুটি , বিস্কুট, দই, ললিপপ, চকলেট এবং কেক। এমনকি শিশু খাদ্য গুঁড়ো দুধেও পাওয়া যাচ্ছে ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষাক্ত ও রং মিশ্রিত খাবার ডায়াবেটিস ছাড়াও কিডনি, লিভারসহ অন্যান্য অঙ্গে ক্যান্সারের কারণ। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৪৫ লাখ মানুষ খাদ্যে বিষক্রিয়ায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। লিভার ও কিডনি বিকলের পাশাপাশি হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পেছনের ক্ষতিকারক রাসায়নিকযুক্ত খাবারই দায়ী। এর বাইরে নিত্যপ্রয়োজনীয় শাক সবজি, ফলমূল ও মাছ তরতাজা রাখতে ফরমালিন মেশানো হচ্ছে। এছাড়া বিষাক্ত ক্যালসিয়াম কার্বাইড দিয়ে পাকানো হচ্ছে কলা ও আনারস। বর্তমানে খাদ্যদ্রব্যে ভেজালের জয়জয়কার হলেও প্রশাসনের অভিযানে কেবল জরিমানা করেই দায় সারা হয়। ভেজালের সঙ্গে জড়িত লোকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে খাদ্য দ্রব্যকে ভেজালমুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি জনগণকে এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেজাল খাবার খেয়ে মানুষ কিডনি বিকল, হার্ট অ্যাটাক, ক্যান্সারসহ নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া দেশে খাদ্যে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার কোনো নজির নাই। ফলে তারা শুধু জরিমানার অংক গুণেই ফের একই কাজ করতে থাকে।

জানা গেছে, বিশুদ্ধ খাদ্য অধ্যাদেশ–১৯৫৯ (সংশোধিত ২০০৫) এ খাদ্য ভেজাল পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। অপরদিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন–২০০৯ এ সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ২ লক্ষ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। নতুন প্রণীত নিরাপদ খাদ্য আইন–২০১৩ তে জরিমানা ও শাস্তির পরিমাণ বাড়িয়ে ৫ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এসবের খুব একটা প্রয়োগ হয় না বললেই চলে।

আরও পড়ুন  জঙ্গল সলিমপুরে দেড় হাজার যৌথ বাহিনী সদস্যের কম্বো অপারেশন

ভোক্তারা বলছেন, ভেজাল বিরোধী অভিযানে দেখা যায়–প্রশাসন প্রায় সময় জরিমানা দিয়েই দায় সারে। কিন্তু জরিমানার পরিবর্তে যদি অপরাধীদের জেল দেয়া যায়, তাহলে অপরাধের প্রবণতা কমতো। আবার দেখা যায়, প্রশাসন জরিমানা দেয়ার পরে তিন মাস আর ওই প্রতিষ্ঠানের আশপাশেও যায় না। ফলে ওই অপরাধী একই ধরনের কাজে আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠে। যেসব প্রতিষ্ঠানকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে, তাদের ফলোআপে রাখা দরকার। এছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের সাথে নিয়মিত মতবিনিময় হওয়া দরকার।

জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ–পরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ জানান, আমরা ভেজাল খাদ্যপণ্যের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কারখানাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। একই প্রতিষ্ঠান যখন দ্বিতীয়বার অনিয়ম করে তখন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছি। দ্বিগুণ জরিমানা এবং প্রতিষ্ঠান বন্ধও করে দিচ্ছি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন