২০২৭ সালের মধ্যে রাখাইনে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চায় আরাকান আর্মি

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঘোষণা; সার্বভৌমত্ব ইস্যুতে সতর্ক থাকতে হবে বাংলাদেশকে

নূর মোহাম্মদ, সহ-বার্তা সম্পাদক

শেয়ার করুন

মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। দেশটির শক্তিশালী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ঘোষণা দিয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যেই তারা পুরো রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে চায়। গোষ্ঠীটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন এর প্রধান জেনারেল তোয়ান ম্রাত নাইং।
তিনি বলেন, জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে তাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে এবং পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য তারা অর্জন করতে সক্ষম হবেন বলে আশাবাদী। বর্তমানে রাখাইন রাজ্যের অধিকাংশ এলাকা তাদের প্রভাবাধীন রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। পাশাপাশি চিন রাজ্য-এর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পালেতওয়া দখলে থাকায় বিদ্রোহীদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
তবে এখনো রাজ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর মিয়ানমার জান্তা সরকার-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজধানী সিত্তওয়ে, বন্দরনগরী কিয়াকফিউ এবং মানাউং। বিশ্লেষকদের মতে, এসব এলাকা দখল করতে পারলে আরাকান আর্মির লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে বড় অগ্রগতি ঘটবে।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থান-এর পর থেকে দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সশস্ত্র সংঘাত বাড়তে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় রাখাইন রাজ্য এখন অন্যতম সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে এবং দেশটির ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
রাখাইন পরিস্থিতির এই পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও কৌশলগত ইস্যু হিসেবে দেখা দিচ্ছে। কক্সবাজার ও বান্দরবান সীমান্ত সরাসরি রাখাইনের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় সংঘাত বাড়লে সীমান্ত নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে অস্ত্র চোরাচালান, অনুপ্রবেশ কিংবা সীমান্ত উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের উচিত সার্বভৌমত্ব রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক তৎপরতা নিয়েও সতর্ক থাকতে হবে। কারণ রাখাইন অঞ্চলকে ঘিরে চীন ও ভারত-এর কৌশলগত স্বার্থ জড়িত, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
কূটনৈতিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রেখে এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করেই বাংলাদেশ এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সার্বিকভাবে, রাখাইন পরিস্থিতি এখন শুধু একটি আঞ্চলিক সংঘাত নয়—এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন  ব্রূনাই দারুস্সালাম হাই কমিশনার হাজী হারিস বিন ওথমান চমাশিহা পরিদর্শন
শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন