পাহাড়ে ম্যালেরিয়া কমলেও মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে চট্টগ্রামে!

নিজস্ব প্রতিবেদক :

শেয়ার করুন

পাহাড়ি জেলাগুলোতে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান সাফল্য আসলেও মৃত্যুহার নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে চট্টগ্রাম জেলা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২০২৫ সালের বার্ষিক ম্যালেরিয়া রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। রিপোর্ট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ম্যালেরিয়ার ‘হটস্পট’ খ্যাত বান্দরবানে আক্রান্তের সংখ্যা চট্টগ্রামের চেয়ে প্রায় ৩৪ গুণ বেশি হলেও সেখানে মৃত্যুহার শূন্য। অন্যদিকে, আক্রান্তের তালিকায় তলানিতে থাকা চট্টগ্রাম জেলায় প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বান্দরবান জেলায় ৩ হাজার ৮৮৮ জন ম্যালেরিয়া রোগী শনাক্ত হলেও সেখানে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। বিপরীতে, চট্টগ্রাম জেলায় মাত্র ১১৩ জন রোগী শনাক্ত হওয়ার বিপরীতে প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন। অর্থাৎ, গত এক বছরে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় ম্যালেরিয়ায় মোট যে ১৪ জন মারা গেছেন, তার মধ্যে প্রায় ৭৯ শতাংশ মৃত্যুই ঘটেছে চট্টগ্রামে। এছাড়া রাঙামাটিতে ২ জন এবং খাগড়াছড়িতে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের আক্রান্তের চিত্রে দেখা গেছে-  রাঙামাটিতে ৩ হাজার ৪০৫ জন এবং খাগড়াছড়িতে ৫১৮ জন ।আক্রান্ত হয়েছেন। জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, পার্বত্য জেলাগুলোতে ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচি ও দ্রুত শনাক্তকরণ পদ্ধতি কার্যকর থাকায় সেখানে আক্রান্তরা দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আসছে। কিন্তু চট্টগ্রামে আক্রান্তের সংখ্যা কম হওয়ায় সাধারণ জ্বরের ক্ষেত্রে ম্যালেরিয়াকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। ফলে রোগীরা একদম শেষ পর্যায়ে বা ‘সিভিয়ার ম্যালেরিয়া’ নিয়ে হাসপাতালে আসায় মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে।

 

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালে পাঁচ জেলায় আক্রান্ত ছিল ৭ হাজার ২০১ জন, যা ২০২৩ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৭৮৩ জনে। তবে ২০২৫ সালে তা কমে ৮ হাজার ৭০১ জনে নেমে আসা সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতির আভাস দিলেও চট্টগ্রামের অস্বাভাবিক মৃত্যুহার জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ ও সমতলে সচেতনতা বৃদ্ধি করা না গেলে এই মৃত্যুঝুঁকি আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রামে অগ্নিদগ্ধ দুঃস্থ ও অসহায়দের রোগী কল্যাণ সমিতির অনুদান

 

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বী  বলেন, পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। সমতলে ফেরার পর জ্বর দেখা দিলেও অনেকে একে সাধারণ জ্বর মনে করে পরীক্ষা করেন না। যার কারণে পরবর্তীতে শারীরিক সমস্যা গুরুতর হলে তারা হাসপাতালে ভর্তি হন।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে ম্যালেরিয়ায় মৃত্যুর প্রধান কারণ হলো ‘দেরি করা’। পাহাড় থেকে ফেরার পর জ্বর হলে অনেকেই একে সাধারণ ফ্লু মনে করে প্যারাসিটামল খেয়ে ঘরে বসে থাকেন। যখন রোগটি সিভিয়ার ম্যালেরিয়া বা মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে, তখন রোগীকে হাসপাতালে আনা হয়। অথচ শুরুতে সামান্য একটি পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা গেলে এই মৃত্যুগুলো ঠেকানো সম্ভব ছিল।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন