দেশজুড়ে মাদক, জুয়া ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে আগামী মে মাস থেকে সমন্বিত সাঁড়াশি অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ অনুযায়ী উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ এক নোটিসের জবাবে তিনি এ ঘোষণা দেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক রাজধানীতে অবৈধ সিসা লাউঞ্জের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ তুলে ধরেন।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
“সরকার নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জুয়া, অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। আগামী ৩০ এপ্রিলের পরে এই মহান সংসদের সেশন শেষ হওয়ার পর আমরা সমন্বিতভাবে সারাদেশে অভিযান পরিচালনা করব। এ দেশের যুবসমাজকে রক্ষা করার জন্য এর কোনো বিকল্প নেই।”
তিনি আরও বলেন,
“অনলাইন জুয়া ও মাদক এখন জাতীয় সমস্যা। অবৈধ সিসা লাউঞ্জ চালু রাখতে মালিকরা রিট করলেও আপিল বিভাগ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ বাতিল করেছে।”
মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যৌথভাবে অভিযান জোরদার করেছে। গত ১৬ এপ্রিল রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় এক অভিযানে প্রায় পাঁচ কেজি সিসা ও ৩৫টি হুক্কা জব্দ করা হয়।
তিনি বলেন,
“অবৈধ সিসা লাউঞ্জ যাতে নাম-ঠিকানা পরিবর্তন করে আবার চালু হতে না পারে, সে জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন,
“কোনো পুলিশ সদস্য এই ব্যবসায় জড়িত থাকলে প্রমাণ পাওয়া মাত্র তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, অতীতে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি, অসাধু ব্যবসায়ী ও কিছু অসাধু কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় এসব অবৈধ সিসা বার গড়ে ওঠে, যেখানে মাদক সেবন ও নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলত।
সরকারের এই ঘোষণাকে মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমন্বিত এই অভিযান বাস্তবায়ন হলে যুবসমাজকে বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।


