সন্তানকে বাঁচাতে পারেনি মা প্রাণ গেল উভয়ের 

সীতাকুণ্ড সংবাদদাতা:

শেয়ার করুন

মায়ের কোল থেকে ছিটকে মহাসড়কে পড়ে যায় ২২ মাস বয়সী শিশু সন্তান। তাকে বাঁচাতে লাফিয়ে পড়েন মা। এ সময় দ্রুতগতিতে আসা একটি গাড়ি চাপা দেয় মাকে। ফলে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। অন্যদিকে গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হয় চমেক হাসপাতালে। বাঁচানো যায়নি তাকেও।

মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ভাটিয়ারী বিএম গেট এলাকায়। পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় চট্টগ্রাম থেকে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী গলফ ক্লাব এলাকায় পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর মোছাম্মৎ তারিন। স্বামী, সন্তান নিয়ে বেড়ানো শেষে রাতে স্বামীর মোটর সাইকেলযোগে পুনরায় চট্টগ্রাম ফেরার সময় ভাটিয়ারী বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএম) গেট এলাকায় হঠাৎ ঝাঁকুনি লেগে মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে তাদের ২২ মাস বয়সী শিশু সন্তান। মুহূর্তের এ ঘটনায় হতচকিত মাও আর দেরি না করে সন্তানকে বাঁচাতে লাফিয়ে পড়েন। কিন্তু এ সময় পেছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি কাভার্ড ভ্যান চাপা দেয় তাকে। এতে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মা তারিন (২৮) মারা যান। এ সময় শিশুটিকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলেও বাঁচানো যায়নি।

এদিকে আনন্দ করতে এসে একই সাথে স্ত্রী-সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা তারিনের স্বামী জাকারিয়া নয়ন। তিনি ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, দুর্ঘটনায় স্ত্রী-সন্তানকে হারিয়ে আমি যখন শোকাহত- তখন কিছু অমানবিক মানুষ আমার স্ত্রীর ব্যাগটি চুরি করে নেয়। ব্যাগে মোবাইল, টাকা, স্বর্ণালংকার এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছিলো।

বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ হক বলেন, মোটরসাইকেল করে স্ত্রী ও বাচ্চাকে নিয়ে ভাটিয়ারী গাল্ফ ক্লাব ঘুরে নিজ বাসা চট্টগ্রামের লালখান বাজারে যাওয়ার সময় মোটর সাইকেল থেকে কোলের সন্তান পড়ে যাওয়ায় স্ত্রীও লাফিয়ে পড়েন। এতে গাড়ি চাপা পড়ে স্ত্রী ঘটনাস্থলে এবং হাসপাতালে সন্তান মারা যান।

আরও পড়ুন  চাকসু নির্বাচন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শিক্ষার্থীদের সাথে পিসিসিপি নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, বেড়াতে এসে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আমার সাবেক সহকর্মী বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের কর্মকর্তা তারিন ও তার শিশু সন্তান মারা যায়। ঘটনাটি আমাদেরকে হতবিহ্বল করে দিয়েছি। আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন