ফল ঘোষণার পর মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘অর্ডিনারি বিভাগে ১৮৪৩ জন ভোট দিয়েছেন, যা ৪৬ দশমিক ০৬ শতাংশ। অ্যাসোসিয়েট শাখায় ৮৮২ জন ভোট দিয়েছেন, যা ৩১ দশমিক ৯৮ শতাংশ।’
এরআগে শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নগরীর আগ্রাবাদে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ভোট গ্রহণ হয়। এবার প্রায় এক যুগ পরে সরাসরি ভোটে চেম্বারের নেতৃত্ব নির্বাচিত হলো।
ফল ঘোষণার পর ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের প্যানেল লিডার মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, ‘প্রায় ১২ বছর পর সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়াটাই বড় প্রাপ্তি। সব শ্রেণির ব্যবসায়ী স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন। আমাদের প্যানেলের সব প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।’অর্ডিনারি (সাধারণ) গ্রুপে নির্বাচিত ১২ জন হলেন, কামাল মোস্তফা চৌধুরী, এএসএম ইসমাইল খান, আবু হায়দার চৌধুরী, মো. আমজাদ হোসাইন চৌধুরী, মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী, আসাদ ইফতেখার, আমান উল্লা আল ছগির, মো. গোলাম সরওয়ার, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ শফিউল আলম, মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম চৌধুরী ও শহিদুল আলম।
অ্যাসোসিয়েট (সহযোগী) গ্রুপের নির্বাচিত ছয়জন হলেন, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আল আজাদ, মোহাম্মদ মশিউল আলম, সরোয়ার আলম খান, মো. জাহিদুল হাসান, মো. নুরুল ইসলাম ও মো. সেলিম নুর।
শনিবার অর্ডিনারি গ্রুপের ১২টি এবং অ্যাসোসিয়েট গ্রুপের ৬টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর বাইরে ট্রেড গ্রুপ ও টাউন অ্যাসোসিয়েশনে তিনটি করে ছয়টি পদে ছয়জনই প্রার্থী ছিলেন। ফলে তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
ট্রেড গ্রুপে মোহাম্মদ আমিরুল হক (ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের প্যানেল লিডার), এসএম সাইফুল আলম ও মোহাম্মদ আকতার পারভেজ এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশনে মোহাম্মদ সাজ্জাদ উন নেওয়াজ, মোহাম্মদ মনির উদ্দিন ও আফসার হাসান চৌধুরী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
চট্টগ্রাম চেম্বারে ব্যবসায়ীদের সরাসরি ভোটে ১২ জন সাধারণ শ্রেণিতে এবং ৬ জন সহযোগী শ্রেণিতে পরিচালক নির্বাচিত হন। এছাড়া টাউন অ্যাসোসিয়েশনে তিনজন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণি থেকে তিনজন পরিচালক নির্বাচিত হয়। এরপর পরিচালকদের ভোটে নির্বাচিত হন সভাপতি ও দুজন সহসভাপতি।
চট্টগ্রাম চেম্বারের মোট ১৮টি পরিচালক পদে এবার প্রার্থী ছিলেন ৫৩ জন। দুটি প্যানেলের প্রার্থীরা ছাড়াও এসব পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ছিলেন। তবে এবার প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি প্যানেলের মধ্যে ভোট গ্রহণের আগের দিন নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল একটি প্যানেল। কিন্তু প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় ব্যালটে সব প্রার্থীর নাম থেকে যায়।
ভোট বর্জন করা প্যানেলটি হল চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নুরুল হকের নেতৃত্বে ‘সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ’। নির্বাচনে সাধারণ (অর্ডিনারি) গ্রুপে ৪ হাজার এক জন এবং সহযোগী (অ্যাসোসিয়েট) গ্রুপে ২ হাজার ৭৬৪ জন ভোটার ছিলেন।শনিবারের ভোট গ্রহণকে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ আখ্যা দিয়ে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের প্যানেল লিডার এস এম নুরুল হক নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়েছিলেন আগের দিন।
‘স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য ভোটার তালিকা’ প্রণয়নের দাবি জানিয়ে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের নেতারা অভিযোগ করেন, অতীতে ভুয়া ভোটার অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।
তাদের অন্যতম দাবি ছিল, সদস্যদের সরাসরি ভোটে প্রেসিডেন্ট, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সুযোগ রাখা। বর্তমানে সদস্যদের ভোটে শুরুতে পরিচালকরা নির্বাচিত হন। পরে পরিচালকরা সভাপতি, জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচন করেন।
২০১৩ সালে চট্টগ্রাম চেম্বারের সবশেষ ভোট হয়। এরপর থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় চেম্বারের নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়ে আসছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর চেম্বারের পুরো পরিচালনা পরিষদ পদত্যাগ করে। এরপর তিন দফায় তিনজন প্রশাসক নিয়োগ হয়।
তারপর ঘোষিত তফসিল অনুসারে গত বছরের ১ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও একাধিক রিট, পাল্টা রিট ও সালিসি আদালতের সিদ্ধান্তে একাধিকবার নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়।


