পাউবোর ‘নিরব খাদক’ প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা

বিশেষ প্রতিনিধি :

শেয়ার করুন
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) এক নিরব খাদকের নাম প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা। যিনি নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে লুট করেছেন কোটি কোটি টাকা। কমিশনের এই টাকায় নিরবতা পালন করেছেন প্রকল্প কাজের অনিয়মে। এ সুযোগে কোটি কোটি টাকা হাতিয়েছেন ঠিকাদাররাও।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে ৭-১০% পর্যন্ত কমিশন নেন। কমিশন ছাড়া তিনি ফাইলে স্বাক্ষর করেন না। এ সুবাধে প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ পাওয়া ঠিকাদাররাও নিজের ইচ্ছেমত কাজ করেছেন। যা ছিল অনিয়মে ভরা। ফলে প্রতিটি প্রকল্পের কাজ বছর না ঘুরতেই ধসে তলিয়ে গেছে।
প্রকল্পগুলোর মধ্যে কর্ণফুলী নদীর তীর সংরক্ষণে একাধিক প্রকল্প রয়েছে, যেগুলোর সবকটি ৫০০ কোটি টাকা থেকে এক হাজার কোটি টাকারও বেশি ছিল। এছাড়া রাউজানে হালদা নদীর তীর সংরক্ষন, রাঙ্গুনিয়ায় ইছামতি নদীর তীর সংরক্ষণ ও রাঙামাটি-কাপ্তাইয়ে বিভিন্ন নদীর তীর সংরক্ষন প্রকল্প বাজস্তবায়ন কাজ রয়েছে। এছাা চট্টগ্রাম মহানগরে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় মদুনাঘাট থেকে চাক্তাই পর্যন্ত হালদা ও কর্ণফুলী নদীর তীর সংরক্ষন প্রকল্পের কাজ বাস্তায়ন হয় এই প্রকৌশলীর তত্ত্ববধানে। যা ২০১৯ সাল থেকে এই প্রকল্পগুলোর কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। এসব প্রকল্পের বরাদ্দ ছিল প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছ্।
বর্তমানে বোয়ালখালী উপজেলায়ও প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে কর্ণফুলী নদীর তীর সংরক্ষন, এবং সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কুরমাই খান প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরার তত্ত্বাবধানে। এসব প্রকল্প তিনি সর্বনিম্ম ৭% হারে কমিশন নিলেও প্রায় ৫০০ কোটি টাকা হাতিয়েছেন তিনি। এ সুযোগে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের ঠিকাদাররাও প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজে নানা অনিয়ম করে কোটি কোটি টাকা লুট করেছেন।
সূত্র আরও জানায়, নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরার সাথে প্রকল্পগুলোর ঠিকাদাররাও শত কোটি টাকার মালিক। তবে এই লুটতে রাঙ্গুনিয়ার সাবেক এমপি ও আওয়ামী লীগের অসভ্য নেতা হিসেবে পরিচিত ড বিসর্গ হাসান মাহমুদকেও দিয়েছেন কোটি কোটি টাকা দিয়ে বশে রাখতেন চতুর এই প্রকৌশলী।
বিগত ১৭ বছর ধরে হাসান মাহমুদের মেশিন চাঁটলেও বর্তমানে তিনি হাসান মাহমুদের এন্টি হয়ে গেছেন। বোল পাল্টিয়ে সুর মেলাচ্ছেন বিএনপি সমর্থনে। যা তদন্ত করলে নিরব খাদক দূর্নীতিবাজ নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা ও ঠিকাদারদের মুখোশ খুলে যাবে। একই সাথে প্রকল্প কাজের সকল অনিয়ম বেরিয়ে আসবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা বলেন, এই চেয়ারে বশে কোন রকম কমিশন ছাড়া প্রকল্প কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে সেটা আমি বলব না। সেটা কেউ বিশ্বাস করবে না। কথায় আছে মাছের রাজা পাবদা, চাকরির রাজা ওয়াপদা।
তিনি বলেন, হাসান মাহমুদকে বশে রাখতে হয়েছে, তাও মিথ্যা না। তিনি মন্ত্রী ছিলেন। তাই তাঁকে সন্তুষ্ট রাখতে হয়েছে। তবে এসব লিখে লাভ কি? নিউজ-টিউজ করার দরকার কি? আপনার জন্য আমি কি করতে পারি সেটা বলুন।
এ বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. জুলফিকার আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
(বি : দ্র:- পাউবো রাঙামাটি ডিভিশনের আওতাধীন প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজে নানা অনিয়ম ও বরাদ্দ লুটপাটের সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।চোখ রাখুন পূর্বধারায়। এ সংক্রান্ত তথ্য প্রদানে সকলের সহযোগীতা কামনা করছি)
আরও পড়ুন  বাঁশখালীতে খেলাচ্ছলে পা‌নি‌তে ডু‌বে ভাই-বো‌নের মৃ’ত্যু
শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন