চিঠি চালাচালিতে সময় ক্ষেপণ

রেলের সিসিএস দপ্তরের রিপিয়ারিং ৮ মাসেও শেষ হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

শেয়ার করুন

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল চট্টগ্রামে পাহাড়তলীর প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (সিসিএস) দপ্তরের মেরামত কাজ ৮ মাসেও শেষ হয়নি। ৭০ লাখ টাকায় কাজ নেওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দৃশ্যমান তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। চিঠি চালাচালিতে সময় ক্ষেপণ এতে দপ্তরের প্রতিদিনের কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। অথচ এ কাজ শেষ হতে ৩ মাসের বেশি সময় লাগার কথা না বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরের মধ্যে বেশ কয়েকবার চিঠি চালাচালিও হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) বিকেলে পাহাড়তলী প্রধান সরঞ্জাম দপ্তরের মেরামত কাজ দেখতে আসেন পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন। এ সময় কাজ শেষ না হওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।জানা গেছে, প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক দপ্তরের গ্রিল, টয়লেট, ফ্লোর টাইলস, দেয়ালসহ অবকাঠামো মেরামতের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। বিভাগীয় প্রকৌশল দপ্তর-২ এর অধীনে ২০২৫ সালের অক্টোবরে ৭০ লাখ টাকায় কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স অর্ণব এসোসিয়েট’। কিন্তু এরপর ৮ মাস পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটি এখনও কাজ বুঝিয়ে দিতে পারেনি।তবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অর্ণব এসোসিয়েটের দাবি, ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর কাজটির কার্যাদেশ পায় তারা। এদিকে চুক্তিপত্রে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষর করেছে রেলওয়ে। বিভাগীয় সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (পূর্ব) এসএম আল মুহিদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন কাজ শেষ করার তাগাদা দিলেও ঠিকাদার কাজ শেষ করেননি।’পরে চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ বরাবর চিঠি দেয় রেল সরঞ্জাম দপ্তর, যাতে কাজ চলাকালীন দপ্তরে ময়লা, গাছের ডাল পালা, মালামাল স্তূপ করে রাখা এবং তা দ্রত সরিয়ে নেয়।১২ জানুয়ারি কাজের ধীরগতি এবং দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য, দ্বিতীয় পত্র দেওয়া হয়। সর্বশেষ দপ্তর থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি এসির গ্রিল, টয়লেট, পশ্চিম পাশের ওয়াল উঁচু করতে সর্বশেষ চিঠি দেওয়া হয় বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ বরাবরে। এরপরও কোন কাজই করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে জানতে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ জিসান দত্তকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পাহাড়তলীর প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক বেলাল উদ্দিন সরকার জানান, ‘৩ মাসের কাজ প্রায় বছরের কাছাকাছি সময় পার হলেও শেষ হয়নি। এভাবে যাযাবরের মতো অফিস চলতে পারে না। বিষয়ে কঠোরভাবে দেখছি।’ এদিকে অর্ণব এসোসিয়েটের পক্ষ থেকে মালামাল সরিয়ে নিতে বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ বরাবরে ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর একটি চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু সেই চিঠিতে কোনো তারিখ ছিল না। পরে এ বিষয়ে জানতে অর্ণব এসোসিয়েট স্বত্বাধিকারী চৌধুরী শরাফত করিম কাওসারের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব) মো. সুবক্তগীন আরও বলেন. ‘যা বলার সে বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত চিঠি দিতে বলেছি।’

আরও পড়ুন  বৈশাখের আগমনী ঘন্টা বাজছে
শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন