অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা কক্সবাজারের উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি: ড. হামিদুর রহমান আযাদ

কক্সবাজার জেলা সংবাদদাতা

শেয়ার করুন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, পর্যটন, সমুদ্রসম্পদ, জ্বালানি, খনিজ, লবণ শিল্প, কৃষি, মৎস্য, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সমন্বিত করে দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে কক্সবাজার দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক হাবে পরিণত হতে পারে। তবে অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জেলার উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও জননিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
সোমবার (২৯ জুন) সকালে কক্সবাজার জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত ‘কক্সবাজারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নয়ন ভাবনা’ শীর্ষক গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া সংস্কার, সুশাসন ও জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পরিবর্তে সরকার দলীয়করণে ব্যস্ত। নির্বাচনের চার মাস পরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, গুম কমিশন, মানবাধিকার কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ কমিশন-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের মাধ্যমে সরকার সংস্কারের পথ সংকুচিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান বাজেটকে ঋণনির্ভর ঘাটতি বাজেট হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, কক্সবাজারে সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট না থাকায় বর্জ্য সাগরে গিয়ে পরিবেশ দূষণ করছে। অপরিচ্ছন্ন সৈকত, দালালচক্র, হকার, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও পর্যটন ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় পর্যটকরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এছাড়া কুতুবদিয়া-মগনামা ঘাট, মহেশখালী জেটি ও ৬ নম্বর জেটির জরাজীর্ণ অবস্থা, মহাসড়কে দুর্ঘটনা, লবণ সিন্ডিকেট, কৃষকের ন্যায্যমূল্য বঞ্চনা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের সীমাবদ্ধতা, জলদস্যুতা, অপহরণ, মাদক, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার এবং প্রায় ১৫ লাখ রোহিঙ্গার চাপ জেলার উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি ভূমি প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার সেবা শতভাগ ডিজিটালাইজেশন, পুলিশ প্রশাসনের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও মেগা প্রকল্পে স্থানীয়দের জন্য অন্তত ৫০ শতাংশ কর্মসংস্থান সংরক্ষণ, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, লবণ সিন্ডিকেট নির্মূল, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, শিক্ষা-স্বাস্থ্য অবকাঠামোর উন্নয়ন, সোনাদিয়ার প্যারাবন সংরক্ষণ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, নতুন সরকারের কাছে মানুষ স্বস্তি প্রত্যাশা করলেও সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। তিনি টেকনাফে অপহরণ, মানবপাচার, মুক্তিপণ, চাঁদাবাজি, মাদক বিস্তার এবং সীমান্ত দিয়ে আধুনিক অস্ত্র প্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন এবং সীমান্তে আরাকান আর্মির তৎপরতা রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান।
কক্সবাজার-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও কক্সবাজার উন্নয়নের বৈষম্যের শিকার। তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক মানে চালু, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ, মাতামুহুরী উপজেলার সদর দপ্তর গ্রহণযোগ্য স্থানে স্থাপন এবং চকরিয়ায় বাইপাস সড়ক নির্মাণের দাবি জানান। তিনি অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকাতেও আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে জনগণ উদ্বিগ্ন।
কক্সবাজার-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী শহীদুল আলম বাহাদুর বলেন, আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে গুলাগুলির ঘটনা আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির প্রমাণ। তিনি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আইসিইউ, সিসিইউ, এইচডিইউ ও কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার চালু, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, যানজট নিরসন, পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীতকরণ এবং মাদক ও সন্ত্রাস দমনে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানান।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন জেলা সাংগঠনিক সেক্রেটারি আল আমীন মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। এতে কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারীসহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন  পেকুয়ায় জামায়াতের ঈদ পুনর্মিলনী: তৃণমূল থেকে নেতৃত্ব গড়ে তোলার আহ্বান
শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন