পাকুন্দিয়ায় সংঘর্ষের ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:

শেয়ার করুন

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তে গাফিলতি এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিতে কারসাজির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অভিযোগকারী পরিবার। তারা দাবি করেছেন, প্রভাবশালী প্রতিপক্ষের প্রভাবে মামলাটি দুর্বল করার অপচেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিকালে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার গাইটাল এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মামলার বাদী মোছা. আম্বিয়া, তার প্রতিবন্ধী স্বামী মো. রমজান আলী এবং দুই ছেলে সোহেল মিয়া ও হৃদয় মিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, গত ৪ জুন পাকুন্দিয়া থানায় দায়ের করা অভিযোগে ৩১ মে বিকেলে তাদের বসতবাড়িতে সংঘটিত হামলার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছিল। ওই অভিযোগে পাঁচজনকে আসামি করা হয়।
বাদীপক্ষের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়।
তাদের অভিযোগ, হামলায় সোহেল মিয়ার মাথা ও পায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়। তাকে প্রথমে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। এছাড়া হৃদয় মিয়া ও রমজান আলী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং বাদী আম্বিয়া ও ফারজানাও আহত হন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, হামলার সময় দুই নারী সদস্যের শ্লীলতাহানি করা হয়। একই সঙ্গে প্রায় আধা ভরি করে দুটি স্বর্ণের চেইন এবং গরু বিক্রির চার লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বসতঘরে ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
বাদীপক্ষ আরও অভিযোগ করে, হামলাকারীরা মামলা করলে প্রাণে হত্যা, লাশ গুম এবং বাড়িতে আগুন দিয়ে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
সংবাদ সম্মেলনে তারা আরও দাবি করেন, মামলার পর প্রতিপক্ষ তাদের প্রভাব খাটিয়ে চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিতে অনিয়ম করার চেষ্টা করেছে। তাদের ভাষ্য, কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের কিছু অসাধু কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজশ করে টাকার বিনিময়ে মেডিকেল সার্টিফিকেটে জালিয়াতির মাধ্যমে আহতদের আঘাতের প্রকৃত চিত্র গোপন রেখে মামলাটিকে দুর্বল করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।
বাদী মোছা. আম্বিয়া বলেন, “আমরা নিরীহ মানুষ। আমাদের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। এখন প্রভাবশালী মহল মামলা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”
আহত সোহেল মিয়া বলেন, “আমি এখনো শারীরিক ও মানসিকভাবে সেই হামলার ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।”
প্রতিবন্ধী রমজান আলী বলেন, “আমরা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।”
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঘটনার প্রকৃত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন  তাড়াইলে দুর্বৃত্তদের হামলায় শারীরিক বাক প্রতিবন্ধী হাবুল মিয়া নিহত
শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

;