রাঙ্গুনিয়ায় কমিউনিটি ক্লিনিকে সরকারি বরাদ্দের রাস্তা নির্মাণে সন্ত্রাসীদের বাধা

রাঙ্গুনিয়া সংবাদদাতা:

শেয়ার করুন

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের জঙ্গল দক্ষিণ নিশ্চিন্তাপুর এলাকায় নির্মাণাধীন কমিউনিটি ক্লিনিকের সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজে সন্ত্রাসীদের বাধার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি ১ নম্বর খতিয়ানের খাস জমির ওপর দিয়ে রাস্তাটি নির্মাণ করা হচ্ছিল। সরকারি বরাদ্দের আওতায় রাস্তা নির্মাণকাজ শুরু হলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত দাশ।

শ্রমিক নিয়োগের মাধ্যমে রাস্তা নির্মাণ কাজ চলাকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট স্থানীয় জনসাধারণকে বিষয়টি বুঝিয়ে দেন। তিনি রাস্তার অবকাঠামো নির্মাণ, পরিমাপ অনুযায়ী রাস্তার দুই পাশে বালি-মাটির মিশ্রণে ভর্তি বস্তা স্থাপন এবং সীমানা চিহ্নিত করতে লাল পতাকা স্থাপনের নির্দেশ দেন।

সরেজমিনে জানা যায়, সার্ভেয়ার কর্তৃক রাস্তা পরিমাপ ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার পর ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যরা চলে গেলে ওৎ পেতে থাকা সায়রা বেগম নামে এক নারী সেখানে উপস্থিত হন। তিনি ইউনিয়ন ভূমি তহসিলদারের সামনেই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে তিনি চলে গেলেও পরদিন দিবালোকে রাস্তার সীমানা চিহ্নিতকারী লাল পতাকা ও বস্তা সরিয়ে নির্মাণাধীন রাস্তার অংশ বিশেষ নষ্ট করে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী মানববন্ধন করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির চেয়ারম্যান এবং ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্যা পারভীন আক্তার বলেন, “জঙ্গল দক্ষিণ নিশ্চিন্তাপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সংযোগ সড়কের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ করেছি। কিন্তু সায়রা বেগম রাতে রাস্তা কেটে নষ্ট করেন। এমনকি দিনের বেলায় সরকারি সার্ভেয়ার কর্তৃক স্থাপিত লাল পতাকাগুলোও প্রকাশ্যে উপড়ে ফেলেন। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছি।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, “ঐ মহিলা ও তার পরিবারের সদস্যদের কয়েক দফা নোটিশ দিয়ে ডাকা হলেও তারা হাজির হননি এবং কোনো জবাবও দেননি। রাস্তা নির্মাণের সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত দাশ, সার্ভেয়ার, তহসিলদার, কানুনগো এবং দুই প্লাটুন মহিলা পুলিশ ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় অভিযুক্ত মহিলা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে গোলযোগ সৃষ্টির অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়। তাদের মুচলেকা নিয়ে ভবিষ্যতে রাস্তা নির্মাণে বাধা না দেওয়ার শর্তে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ওই মহিলা পুনরায় আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করেছেন। এ ঘটনায় তার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে কমিউনিটি ক্লিনিকের সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।”

আরও পড়ুন  চট্টগ্রাম-কক্সবাজার যাত্রায় নতুন দিগন্ত
শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন