পেকুয়ায় জায়গা বিরোধে নারীকে মারধরের অভিযোগ

ঘর সংস্কারে বাধা, টিন কাটার অভিযোগ; ‘ঘর না করে কবর দিন’—দাবি ভুক্তভোগীর

পেকুয়া উপজেলা সংবাদদাতা

শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কেরানছড়ি এলাকায় জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে এক নারীকে মারধর, বসতঘর সংস্কারে বাধা এবং ঘরের চালের টিন কেটে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রবাসী লিয়াকত আলী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী জিয়াছমিন আক্তার।

জিয়াছমিন আক্তার ওই এলাকার বাসিন্দা এবং আবদুর রহমানের স্ত্রী। তাঁর দাবি, ২০১৯ সালের ৬ জুলাইয়ের দিকে স্থানীয় প্রবাসী লিয়াকত আলীর কাছ থেকে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে স্থানীয় পরিমাপ অনুযায়ী প্রায় চার ঘণ্টা জায়গা ক্রয় করেন তিনি। সে সময় লিয়াকত আলী বিদেশে থাকায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে তাঁর সঙ্গে বিদেশ থেকে কথা বলে লিয়াকত আলীর স্ত্রী-সন্তানরা জায়গাটি বুঝিয়ে দেন এবং ঘর নির্মাণেও সহযোগিতা করেন বলে দাবি জিয়াছমিনের।
জিয়াছমিন জানান, ঘর নির্মাণের সময় লিয়াকত আলীর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি তৎকালীন ওয়াকফ এস্টেটের কার্যকারক নুরুন্নবীও সেখানে এসে নির্মাণকাজে সহযোগিতা করতেন। এরপর থেকে তিনি পরিবার নিয়ে ওই ঘরে বসবাস করে আসছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জায়গাটি নেওয়ার পর গত ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা সেখানে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি পাহাড়ি ঢলের পানিতে বসতঘরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ভেঙে পড়ে। এতে ঘরের আসবাবপত্রও নষ্ট হয়। পরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনের সহায়তা নিয়ে ঘরটি সংস্কার করে পুনরায় বসবাসের উপযোগী করার উদ্যোগ নেন তারা।
জিয়াছমিনের অভিযোগ, গত মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে তিনি ঘর সংস্কারের কাজ শুরু করতে গেলে লিয়াকত আলী, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা এতে বাধা দেন। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয়। এ সময় লিয়াকত আলী তাঁকে হুমকি দিয়ে বলেন, ঘর সংস্কার না করে সেখানে যেন কবর দেওয়া হয়; ওই জায়গায় তাঁকে ঘর-সংসার করতে দেওয়া হবে না।
স্থানীয় বাসিন্দা মৌলভী কাসেম, শাহানা বেগম, হ্যাপি আক্তার ও তাছমিন সোলতানা জানান, জিয়াছমিন পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওই ঘরে বসবাস করছেন। পাহাড়ি ঢলে ঘরটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর তিনি ঘর সংস্কারের উদ্যোগ নিলে লিয়াকত আলী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বাধা দিতে দেখা গেছে বলে তাঁরা জানান।
জিয়াছমিন আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পরদিন সকালে ঘর সংস্কারের জন্য গিয়ে তিনি দেখতে পান, বসতঘরের চালের টিন কেটে ছিদ্র করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লিয়াকত আলী। তিনি বলেন, জিয়াছমিনকে সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য মৌখিকভাবে জায়গাটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। জায়গার বিনিময়ে দুই লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, এ ধরনের কোনো টাকা লেনদেন হয়নি।
লিয়াকত আলী বলেন, ঘটনার সময় তিনি বিদেশে ছিলেন এবং প্রায় দুই বছর আগে দেশে ফিরেছেন। দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার কারণে জিয়াছমিন ওই জায়গায় বসবাস করলেও তখন তিনি কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেননি। ঘরের টিন কাটার অভিযোগও অস্বীকার করে তিনি বলেন, ঘর নির্মাণ বা সংস্কার করতে নিষেধ করা হয়েছে, তবে টিন কাটা হয়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য (এমইউপি) আবদুল হক বলেন, খবর পেয়ে তিনি গ্রাম পুলিশসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের চালের টিন কাটা অবস্থায় দেখতে পান। তবে রাতের আঁধারে কে বা কারা টিন কেটেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  রামুতে পুকুর থেকে কিশোরের মৃতদেহ উদ্ধার
শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন