কক্সবাজারের পেকুয়ায় উপকূলীয় প্যারাবন কেটে স্কেভেটর দিয়ে প্রায় ১০ একর জায়গায় মৎস্যঘের নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উজানটিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম উজানটিয়া করিমদাদ মিয়া ঘাটসংলগ্ন উজানটিয়া চ্যানেল এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
বর্গা নেওয়া জমিতে গোপনে প্যারাবন কাটার অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, নয়া পাড়ার মৃত করম আলীর ছেলে শফি ও মিয়া পাড়ার মকবুল বহদ্দারের ছেলে মফিজ কয়েক দিন ধরে ওই এলাকায় মৎস্যঘের নির্মাণের প্রস্তুতি নেন। এ সময় প্রায় ৪ শতক প্যারাবন কেটে ফেলা হয়েছে বলে দাবি তাদের। পরে স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে প্রায় ১০ একর জায়গায় ঘেরের বাঁধ নির্মাণ শুরু করা হয়।
জায়গাটির তদারককারী শিমুল বলেন, তাদের কাছ থেকে বর্গা নিয়ে শফি ও মফিজ গোপনে প্যারাবন কেটে বাঁধ নির্মাণ করছিলেন। বিষয়টি জানার পর তিনি বন বিভাগকে অবহিত করেন।
বন বিভাগের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন, মামলা প্রস্তুতির কথা কর্মকর্তার
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পশ্চিম উজানটিয়ায় বন বিভাগের কার্যালয় থাকা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে প্যারাবন কাটার সময় কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এ ঘটনায় বন বিভাগের স্থানীয় কার্যালয়ের কারও সহযোগিতা বা নীরব ভূমিকা ছিল কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে শফি বলেন, প্যারাবন আগে থেকেই কাটা ছিল। তিনি শুধু মৎস্যঘের নির্মাণের জন্য স্কেভেটর দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করেছেন। অপর অভিযুক্ত মফিজুর রহমান তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে পুরো দায় শফির ওপর দেন।
মগনামা বিট কর্মকর্তা হোসেন তওফিক বলেন, ‘ওখানে কয়েকটি মরা গাছ ছিল। এগুলো কেটে ফেলা হয়েছে শুনেছি। আমি আগামীকাল সরেজমিনে দেখব। এসিল্যান্ড মহোদয় বিষয়টি অবগত আছেন। মামলার প্রস্তুতি চলছে।’
উপকূল রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ প্যারাবন ধ্বংসের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং অবশিষ্ট প্যারাবন রক্ষায় বন বিভাগের কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন।

