পেকুয়ায় জমি-জমা নিয়ে সংঘর্ষ,নারী ও শিক্ষার্থীসহ আহত-৭

নুর মুহাম্মদ কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি।

শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারী ও শিক্ষার্থীসহ ৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
বুধবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের আমিন বাজারে এই ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত আকতার হোসেন (৫২) ও তাঁর স্ত্রী মিনা আক্তারকে (৪৫) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রাজাখালী সুন্দরীপাড়ার আবদুল গনির সাথে তাঁর নিকটাত্মীয় উত্তর সুন্দরীপাড়ার জামাল হোসেন, আবদুল আজিজ ও জাকের হোসেনের ৫৮ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে একাধিকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে এবং থানা ও আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

সাম্প্রতিককালে এই বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। সকালে জামাল হোসেন, জাকের হোসেন ও আবদুল আজিজের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করতে শুরু করে। এতে বাধা দিলে আকতার হোসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়।

হামলায় আহত হলেন, মৃত নজু মিয়ার ছেলে আবদুল গনি, আকতার হোসেন, তাঁর স্ত্রী মিনা আক্তার, ছেলে শাকের উল্লাহ (২৩), ছোট ভাই বেলাল হোসেন (৪০), বড় ভাই মোস্তাক আহমদ (৫০), বেলাল হোসেনের ছেলে পেকুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজের ছাত্র তৌহিদুল ইসলাম (১৯) এবং আজগরীয়া মেহের উলুম দাখিল মাদরাসার ৭ম শ্রেণির ছাত্র শহিদুল ইসলাম (১৬) গুরুতর আহত হন।

আহত আবদুল গনি জানান, পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে তিনি ওই জমির মালিক এবং দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে তা ভোগদখলে রয়েছেন। গত এক বছর ধরে জাকের ও আবদুল আজিজ গং পেশিশক্তির মাধ্যমে জমি দখলের চেষ্টা করছে এবং এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আজ সকালে তাঁরা দলবল নিয়ে তাঁর বাড়ির উঠানে স্থাপনা নির্মাণ করতে গেলে বাধা দেওয়ায় তাঁদের ওপর হামলা করে ৬ জনকে গুরুতর জখম করে।

আরও পড়ুন  বন্দর নগরীতে ১৪ লক্ষ টাকার অবৈধ সয়াবিন তেল জব্দ

অন্যদিকে, জাকের হোসেনের দাবি, আবদুল গনি তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখল করে রেখেছেন এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। তাঁদের আর কোনো উপায় না থাকায় তাঁরা জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করতে গিয়েছিলেন।
স্থানীয় সমাজপতি জহিরুল ইসলাম জানান, হামলাকারীরা অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে মারধর করেছে এবং শত শত মানুষ চেষ্টা করেও তাদের থামাতে পারেনি।
রাজাখালী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ছাদেকা বেগম বলেন, সকাল থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছিল এবং তাঁর চোখের সামনেই মারামারির ঘটনা ঘটেছে। তিনি ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সিরাজুল মোস্তফা জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন