পূর্বাঞ্চলে রেল কর্মকর্তা সেলিমের দুর্নীতির অনুসন্ধানে দুদক 

ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন ;

শেয়ার করুন
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এর উদ্ধৃত দিয়ে শুরু করা যাক,বিগত সময়ে রেলে ভয়ংকর দুর্নীতি করা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক পদ সৃষ্টি করে এই দুর্নীতির পথ তৈরি করা হয়েছে।বিগত সময়ে রেলের দুর্নীতি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেল লেন, চট্টগ্রাম দোহাজারী লেনে ভয়াবহ দুর্নীতি হয়েছে। সেগুলোর ইফোর্ড নিতে পারছি না আমরা। আমাদের যথেষ্ট লোকোমোটিভ নেই, কোচ নেই। এগুলোর পেছনে দুর্নীতি গেঁথে ছিল। আমরা সেগুলো থেকে সরে আসছি। গত মাসের ২৮ নভেম্বর  শুক্রবার দুপুরে নগরের আগ্রাবাদে সড়ক ভবনে সড়ক বিভাগ ও রেল কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। জনস্বার্থে বড় বড় প্রকল্প নেওয়া হলেও সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের সিন্ডিকেটের কারণে চলছে রেলে দুর্নীতি।
চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার ডুয়েল গেজ রেল প্রকল্পের নিম্নমানের যন্ত্রপাতি মালামাল ব্যবহার করে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা লুটের  অভিযোগ উঠেছে।এই ঘটনায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী মোঃ সেলিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে ১৯ আগস্ট ও ২০ অক্টোবর জারি করা দুটি পৃথক পত্রের ভিত্তিতে সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল মালেককে টিম লিডার এবং উপসহকারী পরিচালক আনিসুর রহমানকে সদস্য করে দুই সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। দুদক জানিয়েছে পৃথক দুটি অভিযোগের অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহাব্যবস্থাপক বরাবর  তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছেন সহকারী পরিচালক আব্দুল মালেক। চিঠিতে সাত কর্ম দিবসের মধ্যে সকল নথির সত্যায়িত ছায়া লিপি জমা দিতে বলা হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানায়, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ মোঃ সেলিম উদ্দিন দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে মিয়ানমারের ঘুমধুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল  গেজ প্রকল্পের উপ-পরিচালক ( সিগনাল এন্ড টেলিকম) হিসবে দায়িত্ব রয়েছেন। এছাড়া ২০১৭ সাল থেকে এখনো পর্যন্ত তিনি উপপরিচালক ( রিসেটেলমেন্ট) হিসেবে দায়িত্ব রয়েছেন।
দুদকের চিটিতে বলা হয়েছে, কক্সবাজার রেলপথ প্রকল্পের ৯টি স্টেশনের সংকেত টেলিকম যন্ত্রাংশের ক্রয়ের বিজ্ঞপ্তি দরপত্রে অংশগ্রহণকারী টিকেদারগণ কর্তৃক দাখিলকৃত মূল্যতালিকা সহ সকল রেকর্ড পত্র বিভিন্ন পর্যায়ে গঠিত কমিটির তালিকা ও কমিটির প্রতিবেদন নাগোসিয়েশন দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ, পরামর্শক সহ অন্যান্যদের নিয়োগ সারসংক্ষেপ, বিভিন্ন পর্যায়ে অনুমোদন,চুক্তি অর্থসংস্থান  পেমেন্ট, নোটিশ সহ সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্রের সত্যায়িত ছায়ালিপি দিতে। এছাড়া মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এর এনআইডি, পাসপোর্টের কপি,স্থায়ী বর্তমান ঠিকানা সহ মুঠোফোন নাম্বারও দিতে বলা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রকল্পের নয়টি স্টেশনের সংকেত ও টেলিকম যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আনার কথা থাকলেও মালামাল গুলো ছিল নিম্নমানের।  যা ইতোমধ্যে সেগুলো নষ্ট হওয়ার পথে। চুক্তি অনুযায়ী মানসম্পন্ন এয়ারকন্ডিশনার দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে সাধারণ মানের এয়ারকন্ডিশনার। ৯টি স্টেশনের মোট ১৮ টি মেকানিক্যাল পয়েন্টে নিম্নমানের লোকাল যন্ত্রাংশ তৈরি হওয়ায়   সিগন্যালিং সমস্যার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ব্লক কমিউনিকেশনের জন্য এক্সেল কাউন্টার ও স্থাপন করা হয়নি।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির টাকায়,চট্টগ্রামের কলসি ও কাজীর দেউরিতে ফ্ল্যাট ঢাকায় বসুন্ধরায় বিপুল  সম্পত্তির অনুসন্ধান করছে দুদক। অভিযোগ রয়েছে রেল ভবনের দুই শীর্ষ  কর্মকর্তার অস্ত্র প্রশ্রয়ে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন চারটি লাভজনক পদে দায়িত্ব পান। প্রকল্পের টাকা হরিলুট এবং নিয়মিত অফিস করেন না তিনি।শুধুমাত্র দরপত্র সংক্রান্ত ফাইল স্বাক্ষর করতে তিনি অফিসে উপস্থিত থাকেন।
অভিযোগ বিষয়ে  জানতে চট্টগ্রামের বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশল কার্যালয়ে
প্রকৌশলী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন সাথে  একাধিকবার  দেখা করতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।  তবে শেষ পর্যন্ত গত ৩০ নভেম্বর  রবিবার তার কার্যালয় গেলে পূর্বধারা প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় । তিনি বলেন এই প্রজেক্টের পিডি আমি নয়, আমার হাতে কেনা কাটার দায়িত্বভার নাই। এখানে বিদেশি পরামর্শকদের সকল সার্টিফিকেট  রয়েছে।  দুদক আসলে আমি সব কাগজপত্র সাবমিট করব। প্রকল্পে আপনার কি দায়িত্ব ছিল এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন , আমি শুধু দেখাশোনা করতাম। কিছু না বুঝে না জেনে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে সাংবাদিকরা  আমার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রচার করছে । যার কারনে আমার বদলি  করা হয়  ঢাকায় । ফলে নিজের পরিবার-পরিজন ছেড়ে চলে যেতে হচ্ছে ঢাকায় এটাই আমার দুঃখ। তবে আমি চাইলে বদলি ঠেখাতে পারতাম কিন্তু তা  করেনি। তা করলে আপনারা আবার লেখালেখি শুরু করবেন।
এক পর্যায়ে  তিনি স্বীকার করেন  প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার কারণে বেশ কয়েকবার বিদেশ সফর এবং চট্টগ্রামে দীর্ঘ সময় ধরে চাকরি করার সুযোগ হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক সরকারি পরিচালক আব্দুল মালেক বলেন, আমরা প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছি।  কাগজপত্র চেয়ে চিঠি দিয়েছি।আমাদের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।
আরও পড়ুন  বাঁশখালীতে দিবারাত্রি ফুটবল টুর্ণামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা
শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন