ডা. আরজু রচিত “কবিগুরুর স্বাস্থ্যচিন্তা ও অন্তিম দিনগুলি” এর মোড়ক উন্মোচন

ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন ;

শেয়ার করুন
প্রফেসর (ডা.) মাহমুদ আহমেদ চৌধুরী আরজু চট্টগ্রামের বরেন্য ব্যক্তিত্ব ও কিংবদন্তী সমাজসেবক মরহুম বাদশা মিয়া চৌধুরীর সুযোগ্য সন্তান। (ডা.)  আরজু পেশায় একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।  বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের  শিশু স্বাস্থ্য বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।পাশাপাশি তিনি একজন চিন্তাশীল পাঠক সৃজনশীল লেখক। কিছুটা শখ আর কিছুটা নেশা তাকে লেখার রাজ্য টেনে নিয়ে গেছে। চিকিৎসা বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও সেমিনার প্রবন্ধ নিবন্ধ উপস্থাপন উপলক্ষে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। পর্যটনের নেশাও রয়েছে খানিকটা।  সংশ্লিষ্ট এলাকার ইতিহাস ঐতিহ্য দর্শনীয় স্থান নিয়ে অনুসন্ধান করে বেশ কিছু ভ্রমণ কাহিনী লিখেছেন যা ইতিমধ্যে বিভিন্ন পত্রিকা ও সমসাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। চিকিৎসা বিষয়ে শিশুর স্বাস্থ্যের নানা কথা ও বংশগত রোগ থ্যালাসেমিয়া নামের দুইটি গবেষণামূলক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে যা তার লেখক সত্তার প্রকাশ  “কবিগুরুর স্বাস্থ্যচিন্তা ও অন্তিম দিনগুলি লেখকের তৃতীয় গ্রন্থ।
চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল চিটার্স এ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ডা: আরজু রচিত
  “কবিগুরুর স্বাস্থ্যচিন্তা ও অন্তিম দিনগুলি
গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে আলোচনা  সভা ও সাইন্টেফিক সেমিনার ২২ জানুয়ারি মেডিকেল কলেজের লেকচার গ্যালারিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
চিটার্স এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও  মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর (ডা.) অসীম কুমার বড়–য়ার সভাপতিত্বে  সংগঠনের সেক্রেটারী প্রফেসর (ডা.) অলক নন্দীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান  ছিলেন দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক।
আমন্ত্রিত  অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট কবি ও লেখক  সাংবাদিক কবি আবুল মোমেন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লেখিকা প্রফেসর আনোয়ারা আলম, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর (ডা.) ইমরান বিন ইউনুস, চট্টগ্রাম কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ডা. মঈনুল ইসলাম মাহমুদ, সমাজ সেবক  আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী,  লেখক  আলম খুরশেদ, হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির জেনারেল সেক্রেটারী মোহাম্মদ রেজাউল করিম আজাদ, কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর (ডা.) জালাল উদ্দিন।
সাইন্টেফিক সেমিনারে এপিলেপ্সি বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিশু নিউরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ওয়াহিদা আক্তার লুবনা।
নোবেল বিজয়ী বিশ্বকবি কিংবা কবিগুরু হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবস্থান লেখক পাঠক সবার মনের মন্দিরে। কিন্তু জনসাস্থ্য নিয়ে সচেতন পাঠক লেখক সমালোচক এবং চিকিৎস হিসেবেও যে রবীন্দ্রনাথের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল তা খুব কম মানুষই জানেন। রবীন্দ্রনাথের জীবন, বিশেষ করে কবির জনসাস্থ্য বিষয়ক চিন্তা চেতনা এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রতি কবির অনুরাগ এবং শেষ জীবনের কষ্টকর দিনগুলো ডাক্তার আরজূর মনকে গভীরভাবে উদ্দিপ্ত করে।। তারই বাস্তব রূপায়ণ তার বর্তমান গ্রন্থ কবিগুরুর স্বাস্থ্য চিন্তা ও অন্তিম দিনগুলি।
প্রধান অতিথি দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, আমার মনে হয় ডা. আরজু তার বাবার আকাংক্ষা পূরণ করতে পেরেছেন। বাবার মতো তিনিও একজন সমাজসেবক। সমাজের অবহেলিত মানুষের জন্য তিনিও অনেক কাজ করে যাচ্ছেন। মরহুম বাদশা মিয়া চৌধুরী চট্টগ্রামে অনেক সমাজ হিতৈষী কাজের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম নাইট কলেজ, (যা বর্তমানে সরকারী সিটি কলেজ), সরকারী মহিলা কলেজ, এমইএস কলেজসহ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তার অবদান অবিস্মরণীয়। চট্টগ্রাম শহরে তার স্মরণে একটি রাস্তারও নামকরণ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের এমন কোন শাখা বা বিভাগ নাই যেটা নিয়ে তিনি আলোচনা করেননি। মানুষের স্বাস্থ্য নিয়েও তার ভাবনার অন্ত ছিলনা। তিনি ছিলেন একজন স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ। জীবনের শেষ একটি বছর তাঁর কেটেছে রোগ ভোগের মাঝে। লেখকের এই বইয়ে তার স্বাস্থ্য চিন্তার বিষয়টি সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি প্রফেসর আরজুকে তার এত ব্যস্ততার মাঝেও কবিগুরুকে নিয়ে বইটি লেখার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। প্রধান অতিথি নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বলেন আমরা নিজেদের নিয়ে, নিজেদের পরিবার নিয়ে বেশি ভাববো, তাহলে দেশ ঠিকই এগিয়ে যাবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে আমরা সবাই নিজের এবং নিজের পরিবারের চেয়ে দেশ নিয়ে বেশি চিন্তা ভাবনা করি। বিশেষ অতিথি একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক কবি আবদুল মোমেন বলেন, এই বইটিতে কবিগুরুর স্বাস্থ্য চিন্তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এটি একটি নতুন দিক। কবিগুরুর স্বাস্থ্য নিয়ে আরো বই আছে। পশ্চিম বঙ্গ থেকে তা প্রকাশিত হয়েছে। কবিগুরুর গান এবং কবিতা আজীবন আমাদের মাঝে টিকে থাকবে। আমাদের সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ নানা বিষয়ে সচেতন ছিলেন। তাঁর সমাজ চিন্তা, রাষ্ট্র চিন্তা সবকিছুই আমাদের জন্য শিক্ষনীয়। বই পড়ার মধ্যে আলাদা মজা রয়েছে। তিনি নতুন প্রজন্ম ও ছাত্র-ছাত্রীদের বই পড়ার প্রতি আগ্রহী হওয়ার আহবান জানান। প্রফেসর আনোয়ারা আলম বলেন, ডা. আরজু নানাভাবে সমাজের জন্য, দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি তার ব্যতিক্রমী এই বইয়ের জন্য লেখক প্রফেসর মাহমুদ আহমেদ চৌধুরী আরজুকে অভিনন্দন জানান।
অনুষ্ঠানে  উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট  আবদুল মান্নান রানা, ডা. মো. পারভেজ ইকবাল শরীফ, ডোনার মেম্বার মো. হারুন ইউসুফ, অর্গানাইজিং সেক্রেটার মো: সাগির
বিশিষ্ট সমাজ সেবক রোটারিয়ান সাইফুল ইসলাম, কবি মর্জিনা আক্তার, পরিচালক (প্রশাসন). মো. নূরুল হক, পরিচালক (ল্যাবরেটরী সার্ভিসেস) ও সাবেক প্রিন্সিপাল প্রফেসর এ এস এম মোস্তাক আহমেদ, গাইনী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর (ডা.) সিরাজুন নুর, প্রফেসর তাহেরা বেগম, প্রফেসর দিদারুল আলম, প্রফেসর সঞ্জয় কান্তি বিশ্বাস , পরিচালক (মেডিকেল এ্যাফেয়ার্স) ডা. এ কে এম আশরাফুল করিম, পরিচালক (ফিন্যান্স)  মোহাম্মদ রফিকুল আলম, উপ-পরিচালক (প্রশাসন)  মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন, উপ-পরিচালক (প্রশাসন, আইসিএইচ) ডা. মো. আবু সৈয়দ চৌধুরী, নার্সিং কলেজ প্রিন্সিপাল মিসেস স্মৃতি রানী ঘোষ, নার্সিং ইনষ্টিটিউট প্রিন্সিপাল মিসেস ঝিনু রানী দাশ, হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং ইনষ্টিটিউট/কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা, কর্মচারী, ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ। এছাড়া প্রফেসর ডা. মাহমুদ আহমেদ চৌধুরী আরজুর পরিবারের সদস্যগণও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন  চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের দুই কর্মচারী সাময়িক বরখাস্ত
শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন