অপহৃত ব্যবসায়ী হাসান পশ্চিম পুঁইছড়ি ২ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী নুরুল কবিরের ছেলে। ৫ ভাইবোনের মধ্যে তিনি অন্যতম। বিগত ১২ বছর আফ্রিকার মোজাম্বিকে প্রবাসী হিসেবে অবস্থান করার পর ২ বছর আগে দেশে ফিরে প্রেমবাজারে হার্ডওয়্যারের ব্যবসা শুরু করেন তিনি। তার আবদুল্লাহ ও আকলিমা নামে দুটি সন্তান রয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মোজাফফর আহমদ জানান, “ইউনিফর্ম ও মাস্ক পরিহিত দু’জন লোক দোকানে ঢুকে হঠাৎ হাসানকে হাতকড়া পরিয়ে বাইরে অপেক্ষারত সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। তাদের পোশাকে এসআরবির ভুয়া লোগো লাগানো ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মনে করে ভয়ে কেউ বাধা দেওয়ার সাহস পায়নি।”
অনুসন্ধানে জানা যায়, দুর্বৃত্তরা প্রথমে অপহৃতকে অটোরিকশায় করে নাপোড়া হয়ে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টৈটং হাজী বাজারে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সেখান থেকে অন্য একটি অটোরিকশায় করে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী নতুন রাস্তার মাথার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে স্বজনরা জানান, রবিবার দুপুর থেকে বিকাল ২টার মধ্যে একটি আইপিও নম্বর থেকে তাদের কাছে হঠাৎ ফোন আসে। হাসানকে মুক্তির বিনিময়ে মোটা অংকের মুক্তিপণ দাবি করা হলে পরিবার টাকা দিতে সম্মত হয়। কিন্তু পরবর্তীতে অপহরণকারীরা নির্ধারিত স্থানে আর পৌঁছায়নি।
ঘটনার বিষয়ে এসআরবি-৭ চট্টগ্রাম-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মোসলেহউদ্দিন আহমদ জানান, “ওই দিন প্রেমবাজারে এসআরবি কোনো অভিযান পরিচালনা করেনি। এসআরবি পরিচয়ে যারা এ কাজ করেছে তারা ভুয়া। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চলছে; সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কাশেম ও অপহৃতের বড় ভাই হোসাইন বলেন, “প্রশাসনের সাথে কথা বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নয়। কারা, কী কারণে তাকে নিয়ে গেছে তা এখনো অজানা। আমরা তাকে দ্রুত ও অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেতে প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা চাই।”
একই আকুতি জানিয়ে অপহৃতের স্ত্রী উম্মে সালমা বলেন, “আমরা চরম শংকায় দিন কাটাচ্ছি। আমার স্বামী কোথায়, কেমন আছেন কিছুই জানি না। আমি আমার স্বামীকে অক্ষত অবস্থায় ফেরত চাই এবং এ বিষয়ে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
বিষয়টিকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর উল্লেখ করে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক জানান, পুলিশ অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে বিষয়টি তদারকি করছে এবং অপহৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধারে একাধিক দল অনুসন্ধানে নেমেছে।

