কিশোরগঞ্জের তাড়াইল-কিশোরগঞ্জ সড়কের ব্র্যাক অফিস সংলগ্ন এলাকায় সরকারি অনুমোদন ছাড়া গাছ কাটার অপরাধে অভিযান চালিয়ে তা বন্ধ করে দিয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জিসান আলী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাড়াইল উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল হাই আজাদ প্রভাব খাটিয়ে সরকারি রাস্তার পাশ থেকে বেশ কিছু মূল্যবান গাছ সরকারি দরপত্র বা কোনো প্রকার অনুমোদন ছাড়াই কাটা শুরু করেন। দিনের আলোতে প্রকাশ্যে সরকারি গাছ কাটার ছবি ও খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসে।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ জিসান আলী এবং গাছ কাটা বন্ধের নির্দেশ দেন। তবে পরদিন আবারও গাছ কাটা শুরু হলে তিনি উপজেলা পরিষদের অফিস সহকারী পাঠিয়ে পুনরায় তা স্থগিত করান। এর মধ্যেই একটি মূল্যবান সরকারি গাছ পুরোপুরি কেটে ফেলা হয় এবং অন্য একটি গাছের ডালপালা কেটে ফেলা হয়।
এ বিষয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, “সরকারি সম্পত্তি এবং পরিবেশ রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। হাইকোর্টের নির্দেশনা ও দেশের ‘বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ’ অনুযায়ী কোনো প্রকার বৈধ অনুমতি বা নিলাম ছাড়া সরকারি গাছ কাটার কোনো সুযোগ নেই। এই অবৈধ কাজের সাথে যারা জড়িত, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, পরিবেশ নীতি অনুযায়ী, যেকোনো সরকারি স্থানে গাছ কাটতে হলে নির্দিষ্ট কমিটির পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর জরিমানার বিধান রয়েছে। প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় পরিবেশবাদী ও সাধারণ জনগণ।
তবে গাছ কাটার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আব্দুল হাই আজাদের বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া এখনও জানা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

