কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর পাঁচকিত্তা গ্রামে এক নারীকে ঘরের দরজা ভেঙে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ফজর আলী (৩৮), যিনি ঘটনার পর স্থানীয়দের হাতে আটক ও প্রহৃত হন। পরে আহত অবস্থায় তিনি পালিয়ে যান।ধর্ষণের শিকার ওই নারী (২৫) শুক্রবার (২৮ জুন) দুপুরে মুরাদনগর থানায় একটি মামলা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় ১৫ দিন আগে স্বামীর বাড়ি থেকে সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) রাত ১০টার দিকে অভিযুক্ত ফজর আলী ঘরের দরজা খুলতে বলেন। তিনি রাজি না হলে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।প্রতিবেশীদের ভাষ্য, ওই রাতে বাড়ি থেকে চিৎকার ও দরজা ভাঙার শব্দ পেয়ে স্থানীয়রা গিয়ে দেখেন দরজা ভাঙা এবং ওই নারী অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন। এক প্রতিবেশী বলেন, “ঘটনার সময় আমরা দৌঁড়ে গিয়ে লোকজন ডাকি, পরে সবাই মিলে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করি।”
পরে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা।
পুলিশ জানায়, ধর্ষণের মূল অভিযুক্ত ফজর আলীকে ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর ভিডিও ধারণ ও তা ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় আরও চারজনকে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া অন্যরা হলেন—অনিক, সুমন, রমজান ও বাবু। তারা সবাই মুরাদনগরের রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের পাচকিত্তা গ্রামের বাসিন্দা।
রোববার (২৯ জুন) রাত দেড়টার দিকে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, ভিডিও ধারণ ও প্রচারের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান জানান, ধর্ষণের ঘটনায় আসামি ফজর আলীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং ভুক্তভোগী নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে।
এ ঘটনায় ধর্ষণের পাশাপাশি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগেও মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে।


