মহেশখালী উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে অস্ত্রসহ ধরা পড়েছে শীর্ষ সন্ত্রাসী শহিদুল ইসলাম রিপন। শনিবার রাতে কালামারছড়া ইউনিয়নের বরুয়া বাজার এলাকায় তল্লাশি চৌকিতে তাকে আটক করে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে দেশীয় তৈরি একটি এলজি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, শনিবার সকাল থেকেই মহেশখালী থানার একটি বিশাল বাহিনী কালামারছড়া ইউনিয়নের ইউনুসখালী পাহাড় ঘিরে ফেলে। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে প্রায় ২০০ পুলিশ সদস্য অংশ নেয়। সন্ত্রাসীদের আস্তানা ঘিরে রাখলেও তারা পাহাড় ছেড়ে লোকালয়ে পালিয়ে যায়। ফলে পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী এ অভিযান শেষে পুলিশ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চৌকি বসায়।
অভিযানের মুখে পাহাড়ে অবস্থানরত সন্ত্রাসীরা গহীন অরণ্য থেকে নেমে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ধাওয়া করে তাদের গতিপথ নিয়ন্ত্রণে রাখে। সড়ক, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। অবশেষে রাত ১০টার দিকে বরুয়া বাজার এলাকায় এক তল্লাশি চৌকিতে ধরা পড়ে রিপন।
মহেশখালী থানার ওসি মঞ্জুরুল হক জানান, আটক শহিদুল ইসলাম রিপনের বিরুদ্ধে এক ডজনের মতো মামলা রয়েছে। এর মধ্যে পুলিশকে মারধর, ডাকাতি ও চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে আসছিলেন।
ওসি আরও জানান, সন্ত্রাসীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। চলমান এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। যারা পলাতক রয়েছে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, “অভিযান চলাকালীন সাধারণ জনগণের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই মহেশখালীকে সন্ত্রাসমুক্ত এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে।”
অভিযান ও রিপন গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে সাধারণ মানুষ। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রিপনের মতো সন্ত্রাসীরা গ্রেপ্তার হলে সমাজে শান্তি ফিরবে। তবে তারা পুলিশের কাছে দাবি জানিয়েছেন, এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চালিয়ে যেতে হবে, যেন সন্ত্রাসীরা আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।


