নিরাপত্তাহীন মাতামুহুরি: ডাকাতির সময় মা-মেয়েকে ধর্ষণ, ধরা পড়ল ৬ ডাকাত

একই রাতে দুই প্রবাসীর বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাতি; লুটপাট, নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ

চকরিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা

শেয়ার করুন

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলায় একই রাতে দুই প্রবাসীর বাড়িতে সংঘটিত সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে এক বাড়িতে ব্যাপক লুটপাটের পাশাপাশি অপর একটি বাড়িতে মা-মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনতার সহায়তায় ৬ ডাকাতকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৯ জুন দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চৌয়ারফাঁড়ি বাজারের উত্তরে কদ্দাছড়া নয়াপাড়া এলাকায় প্রবাসী নুরুল আবসারের বাড়িতে একদল সশস্ত্র ডাকাত হামলা চালায়।

ডাকাতরা প্রথমে বাড়ির বাউন্ডারি টপকে ভেতরে প্রবেশ করে এবং গেটের তালা ভেঙে ফেলে। পরে জানালার গ্রিলের পাঁচটি রড কেটে বারান্দা দিয়ে ঘরে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এ সময় প্রবাসী নুরুল আবসার ও তার ছেলে রবিউল হাসানকে হাত-পা বেঁধে রাখা হয়। পরিবারের অভিযোগ, ডাকাতরা জোসনা খানমকে মারধর করে আলমারিতে থাকা প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ২ লাখ টাকা, দেড় হাজার সৌদি রিয়াল, বিদেশি কম্বলসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

একই রাতে পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের সিকদারপাড়া ডলনিরঘোনা এলাকায় অপর এক প্রবাসীর বাড়িতেও সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে লুটপাট চালানোর পাশাপাশি মা-মেয়েকে ধর্ষণ করে।

ঘটনার পর ডাকাতদল পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসে। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ৬ জন ডাকাতকে আটক করা হয়। স্থানীয়দের গণধোলাইয়ের পর তাদের চকরিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

একই রাতে পরপর দুইটি ভয়াবহ ঘটনায় পুরো মাতামুহুরি এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ডাকাতি ও সশস্ত্র অপরাধের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন  বন্দরের এনসিটি ইয়ার্ড থেকে পণ্যবোঝাই কন্টেনার পাচার

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন