ধনীদের সম্পদ পবিত্রতা করার মুখ্য সময় এখনই!

ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন :

শেয়ার করুন

ইসলামী বিধান অনুযায়ী, বানভাসি বা যেকোনো দুর্যোগে অভাবগ্রস্ত মানুষকে সাহায্য করলে অবশ্যই সম্পদের পবিত্রতা আসবে। পবিত্র কোরআনে দানকে সম্পদের পবিত্রতা ও বৃদ্ধির অন্যতম মাধ্যম বলা হয়েছে। বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের এবং অকল্যাণ দূর করার চমৎকার উপায়।

পবিত্র কোরআনের ঘোষণা অনুযায়ী, ধনীদের সম্পদে অভাবী ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সুনির্দিষ্ট অধিকার রয়েছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমতার এই ঐশী বিধানকে উপেক্ষা করে যখন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী চরম আত্মকেন্দ্রিকতা ও কায়েমি স্বার্থ চরিতার্থ করতে উদ্‌গ্রীব হয়, তখন তাদের ওপর অনিবার্যভাবে সামাজিক ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে আসে। পাহাড় পরিমাণ সম্পদ দুনিয়াতে রেখে গিয়ে কোন লাভ নেই। মনে রাখবেন মৃত্যু হলে সাড়ে তিন হাত মাটির নিচেই আপনার শেষ ঠিকানা। বর্তমান সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে মানবিক বিপর্যয়ে স্পষ্টতই একটি বিষয় জগতবাসি দেখেছে ক্ষেত্র বিশেষে মাটি ও আপনার দেহ গ্রহণ করবে না। বর্তমানে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা বা দুর্যোগের কারণে দাফনের শুকনো জায়গা না পেয়ে এবং মরদেহ পচে যাওয়ার আশঙ্কায় বাধ্য হয়ে মরদেহ বা কফিন ভেলায় ভাসিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া বা পানিতে ভাসিয়ে দেওয়ার মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এটা আমাদের জন্য জ্বলন্ত একটা শিক্ষা।

পবিত্র কোরআনের সুরা আল-কালামে তেমনই একটি ঐতিহাসিক ও শিক্ষণীয় বিবরণ পাওয়া যায়। আল্লাহর নবী হজরত ইসা (আ.)-কে আসমানে উঠিয়ে নেওয়ার কিছুদিন পর ইয়েমেনের সানা নগরীর পাশে ঘটে যাওয়া ‘বাগানওয়ালাদের’ এই ঘটনা প্রাচীন আরবদের মধ্যেও বেশ প্রসিদ্ধ ছিল।

এমনকি ইসলাম আসার পর কোরআনের চিরন্তন বাণীর মাধ্যমে আজও এই ঘটনাটি বিশ্ববাসীর কাছে জীবন্ত হয়ে আছে।

আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি এদের পরীক্ষা করেছি, যেভাবে পরীক্ষা করেছিলাম বাগানের মালিকদের; যখন তারা কসম করেছিল যে অবশ্যই তারা ভোরবেলা বাগানের ফল আহরণ করবে। আর তারা ইনশা আল্লাহ বলেনি। অতঃপর তোমার রবের পক্ষ থেকে এক বিপর্যয় বাগানের ওপর দিয়ে বয়ে গেল, যখন তারা ঘুমন্ত ছিল। ফলে তা পুড়ে কালো ছাইয়ে পরিণত হলো।’ (সুরা আল-কালাম, আয়াত: ১৭-৩১)

আরও পড়ুন  পেকুয়ায় লাশ দাফনের আগে ভূমির বিরোধে মারামারি,আহত ৩

পরিকল্পনা ও আকস্মিক বিপর্যয়
বাগানের ফসল যখন পেকে লাল হলো, তখন ভাইয়েরা এক অভিনব কুপরিকল্পনা করল। তারা সিদ্ধান্ত নিল, পরদিন ভোরের সূর্য ওঠার আগেই, অন্ধকার থাকতে থাকতে তারা বাগানের সব ফসল কেটে ঘরে তুলে আনবে। এতে সকালবেলা গরিবরা টের পাওয়ার আগেই ফল বণ্টনের কাজ শেষ হয়ে যাবে এবং কাউকে কোনো অংশ দিতে হবে না।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, তারা শেষরাতে বাগানের উদ্দেশে রওনা হয়। কিন্তু বাগানে পৌঁছেই তারা স্তম্ভিত হয়ে গেল। তাদের চোখের সামনে এক অবর্ণনীয় ও রূঢ় বাস্তবতা।

তাদের অবাধ্যতা ও কৃপণতার শাস্তিস্বরূপ রাতের অন্ধকারে আল্লাহর নির্দেশে এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ এসে পুরো বাগানটি আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। যে বাগানের ফসল দিয়ে তারা নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের অলীক স্বপ্নে বিভোর ছিল, সেখানে ছিল কেবল কালো কয়লা আর ধূসর ছাই। তাই আসুন সময় থাকতে দুর্গতদের পাশে দাঁড়াই।

লেখক: ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন

সম্পাদক ও প্রকাশক

সাপ্তাহিক পূর্বধারা পত্রিকা

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন